‘মেগা প্রকল্পে মাতামাতি স্বৈরশাসকের নীতি’

ঢাকা, ১৭ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যয় না করে মেগা প্রজেক্টে বেশি ব্যয় করছে। মেগা প্রকল্প নিয়ে মাতামাতি স্বৈরাচার সরকার নীতি। কারণ মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে স্বৈশাসকরা সব সময় দেখাতে চায় যে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রকৃত অর্থনীতি কাজ করছে না মন্তব্য করে প্রাক্তন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রকৃত অর্থনীতি কাজ করছে না বলে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যয় না করে মেগা প্রজেক্টে ব্যয় করছে। এসব প্রকল্পে কোনো জবাবদিহিতা নেই। এর ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর ওই ব্যয় সমন্বয় করতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে সরকার। মেগা প্রকল্প নিয়ে মাতামাতি স্বৈরশাসকের নীতি। আমরা দেখেছি মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে স্বৈশাসকরা সব সময় দেখাতে চায় যে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ছাড়া বহুদূর যাওয়া যাবে না। সরকার চেষ্টা করছে প্রাইভেট খাতে বিনিয়োগ করে চেষ্টা করছে। সেজন্য মেগা প্রজেক্টে বিনিয়োগ হচ্ছে। মেগা প্রজেক্টের সঙ্গে অন্যান্য খাতে যেতে হবে। আমাদের ঠিক করতে হবে আমাদের অগ্রাধিকার কি হওয়া উচিত। ১০ বছর আগে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.০৬ শতাংশ। আমরা যত বড় বড় কথা বলি আমরা এখনো সেখানেই রয়ে গেছি। এর মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচক ৫ ধাপ নিচে গিয়ে ১৪০। বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদের অভাবে প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে।

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি নেতা বলেন, পরোক্ষ করের দিকে ঝুঁকছি। ভ্যাট বড়লোক ও গরীব সবাই দিবে। কুইক রেন্টালের কারণে বিদ্যুতের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এবার এর সঙ্গে ভ্যাট যোগ হবে। আমাদের প্রকৃতি আয় কমেছে। বিবিএসের পরিসংখ্যানে ধরলে যতটুকু আয় বেড়েছে যদি মুদ্রাস্ফীতি তা থেকে বাদ দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে ৮ শতাংশ ক্রয়ক্ষমতা অর্থ্যাৎ আয় কমে যাবে। এর সঙ্গে যোগ হবে ভ্যাট যোগ হবে।

তিনি বলেন, সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রকৃত গণতন্ত্র না থাকার কারণে এর প্রভাব সংবাদপত্রসহ অন্যান্য সেক্টরে পড়েছে। মানবাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকৃত গণতন্ত্র না থাকলে এর থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।

সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থমন্ত্রণলায় সংক্রান্ত স্থায়ী কিমিটির সভাপতি ড. আবদুল রাজ্জাক ও সিপিডির চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান প্রমুখ।