টিআইবির রিপোর্ট একপেশে ও উদ্দেশ্যমূলক : তথ্যমন্ত্রী

0
39

ঢাকা , ৩০ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস২৪):

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দশম সংসদের কার্যক্রমের ওপর টিআইবি প্রকাশিত রিপোর্টটি একপেশে এবং উদ্দেশ্যমূলক। যে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে সেখানে অনেক ভুল রয়েছে। অতীতেও টিআইবি এধরনের ভ্রান্ত রিপোর্ট করেছে, তাদের উচিত ছিল জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। আমরা সমালোচনা চাই, কারণ সমালোচনা পথ চলাকে শাণিত করে। কিন্তু একপেশে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে অহেতুক প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সমালোচনা কাম্য নয়।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে তৃণমূল বিএনপি আয়োজিত ‘জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে মন্ত্রী একথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘গতকাল টিআইবি দশম সংসদের কার্যক্রমের ওপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। যে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তা করা হয়েছে সেখানে অনেক ভুল রয়েছে। এই রিপোর্টটি একপেশে এবং উদ্দেশ্যমূলক। আমরা অতীতেও দেখেছি, পদ্মাসেতু নিয়ে যখন অমূলক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তখন টিআইবি বিশ্বব্যাংকের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রিপোর্ট দিয়েছে। অথচ বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টই ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে, সে অভিযোগের কোনো সত্যতা নাই। এরপর টিআইবির উচিত ছিল জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

‘টিআইবি’র সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে আধঘন্টায় বিল পাশ হয়, কিন্তু সে বিলগুলো নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা-সমালোচনা হয়, সে দীর্ঘ সময় টিআইবি অন্তর্ভূক্ত করেনি’ উল্লেখ করে টিআইবি’র অন্যান্য উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের উদাহরণ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১০ সালে সুন্দরবনে অনিয়ম নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছিল। কেউ যদি তাদের রিপোর্টের প্রাথমিক বিষয়গুলো পড়ে, মনে হবে অনিয়মগুলো ২০১০ কি ২০০৯ সালে হয়েছিল। কিন্তু আসলে অনিয়মগুলো ২০০৭ এবং ২০০৮-এ ঘটা, যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা যে কয়েক বছর পুরনো রিপোর্ট করছেন, তাদের উচিত ছিল প্রথমেই সেটি পরিস্কার করা।’

‘দশম পার্লামেন্টের স্পিকার বিশ্বের সমস্ত দেশগুলোর ভোটে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টের এসোসিয়েশনের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন, দশম পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-আইপিইউ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন- এই তথ্যগুলোও টিআইবি’র একপেশে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টে নাই’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি টিআইবিকে অনুরোধ জানাবো, সঠিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তারা যেন রিপোর্ট তৈরি করেন এবং গণতান্ত্রিক দেশকে এইভাবে অমূলক প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা না করতে, কারণ এটি গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বিএনপি’র বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নানা কথাবার্তা বলেছেন। তাদের কথায় প্রতীয়মান হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন তাদের উদ্দেশ্য নয়, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে জলঘোলা করা। আমি বিএনপি মহাসচিবকে বলবো, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকার সঠিক পথে এগুচ্ছে, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলকে সম্পৃক্ত করেছে। কিন্তু কিছু এনজিও ও একইসাথে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মী যারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে খেলতে চায় তাদের কারণেই এবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। অচিরেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান এসময় বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎবার্ষিকী পালন করায় ‘তৃণমুল বিএনপি’কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আশা করি তৃণমূল বিএনপির কাছ থেকে বিএনপি কিছু শিখবে।’ একইসাথে তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী কর্নেল ফারুক-রশিদ টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জিয়াউর রহমান তখন উপ-প্রধান সেনাপ্রতি। বঙ্গবন্ধুহত্যার পরিকল্পনা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি বলেন, তোমরা কর, আমি সিনিয়র অফিসার হিসেবে সামনা সামনি থাকতে পারিনা। আবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর সেনাবাহিনী অফিসাররা জিয়াউর রহমানের কাছে গেলে তিনি তাদের বলেন, ‘সো হোয়াট! ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার!’

রাষ্ট্রের উপ-প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে হত্যার করার পরিকল্পনা যখন তিনি অবগত হন সেটি দ্রুতগতিতে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা। সেটি তিনি করেননি। এবং রাষ্ট্রপতি নিহত হয়েছেন, সেটিও দ্রুত উর্ধ্বতনদের জানানোও যারা এ অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যা তিনি করেননি। এতেই প্রমাণিত হয় জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের কুশীলব।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান পরবর্তী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরো প্রমাণ করেছেন যে, তিনিই বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান কুশীলব। হত্যাকারীদের তিনি বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, ইন্ডিমেনিটি অধ্যাদেশ সংসদে পাশ করিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছেন। খালেদা জিয়া তার জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট পালন করা নিয়ে প্রমাণ করে যে তিনিও এর সাথে জড়িত। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে খুশী হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কারণে যারা রাজনৈতিক সুবিধাভোগী, তারা বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ দিবস পালন করবেন না, এটি স্বাভাবিক। তৃণমূল বিএনপির কাছে শিখতে চাইলেও তারা শিখতে পারবে না।’

ড. হাছান বলেন, ‘আজকে মানুষের দাবি হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশলীবদের বিচার হয়নি, তা করা এবং সেজন্য একটি কমিশন গঠন করা। আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বলেছেন কমিশন হবে।’

‘আওয়ামী লীগ কখনো জয় বাংলা শ্লোগান দলীয়করণ করেনি’ উল্লেখ করে মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু দুটিই মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছে। বুকে যখন বুলেট বিদ্ধ হয়েছে, তখন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে তারপর কালিমা পড়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করেছে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান যারা দেয় না, এটি তাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা। আওয়ামী লীগ কাউকে এই শ্লোগান দিতে নিষেধ করেনি। আশা করি সবাই ধীরে ধীরে এই দৈন্যতা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।’

তৃণমূল বিএনপির কো-চেয়ারম্যান কে এ জাহাঙ্গীর মজমাদার, মহাসচিব মেজর (অব:) ডা. শেখ হাবিবুর রহমান, ব্যারিস্টার আকবর আমিন বকুল, সহযোগী মহাসচিব পরশ ভাসানী প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।