নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক ম. আ. মুক্তাদিরকে স্মরণ

0
22

ঢাকা , ১৩ সেপ্টেম্বর, (ডেইলি টাইমস২৪):

মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, প্রগতিশীল নাগরিক অধিকার সংগঠক ম আ মুক্তাদিরের মৃত্যুবার্ষিকীতে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে তাদের অনেকই আজ জীবন সায়াহ্নে। অনেকেই চলে গেছেন দেশ ও সমাজ নিয়ে তাদের নানা স্বপ্নের মাঝপথে।

বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দ্রোহ প্রজন্মের বহু মেধাবী সন্তান সময়ের নিষ্ঠুর বলি হয়েছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা ঘটনা তাদের তাড়িত করেছে। অনেকেই নিজেকে নিঃশেষ করে দেশ ও সমাজের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আর ভালোবাসার কথা জানান দিয়ে গেছেন।দেশ মাতৃকার এসব খাঁটি সন্তানদের নানাভাবে চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের উত্তর প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন আব্দুল মুকিত চৌধুরী, শেখ আখতারুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, ফকির ইলিয়াস, ফারহানা তুলি, ইশতিয়াক রুপু, রব্বানী চৌধুরী, মঞ্জুরুল হক, ভায়লা সেলিনা, রোকেয়া দীপা , আব্দুস শহীদ, শেলী জামান খান, সানজীদা উর্মী , রওশন হক, আব্দুল মুকিত চৌধুরী , মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম , জয়দেব দে, ফরহাদ চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ,অ্যাডভোকেট বিমান দাশ, শিবতোষ চক্রবর্তী, আব্দুল মালিক জুয়েল , মামুন আহমেদ,মামুন রশীদ চৌধুরী, আ ফ ম মেসবাউজ্জামান, রহমান মাহবুব, হেলিম আহমেদ প্রমুখ।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ম আ মুক্তাদিরের মতো বন্ধু আমার ছিল এ কথাটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বড়লোকদের স্মরণসভা অনেকেই করে। আজকের ব্যতিক্রমী স্মরণসভা দেশ ও সমাজের জন্য লড়ে যাওয়া নিঃস্বার্থ মানুষের জন্য একদল অগ্রসর মানুষের ভালোবাসার প্রমাণ।

উল্লেখ্য, কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ম. আ. মুক্তাদির সিলেটের সুরমা পার থেকে মুক্তিযুদ্ধের ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। প্রগতিশীল তরুণ সংগঠক ছাড়াও ক্রীড়া, সাংবাদিকতাসহ নানা ক্ষেত্রের এক সার্বক্ষণিক লড়াকু হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। দেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ সংগঠককে দীর্ঘ কারাবরণ করতে হয়। এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে মামলা ও পারিবারিক কারণে আটকা পড়েন। যুক্তরাজ্যের নাগরিক আন্দোলনে মাঠের সার্বক্ষণিক কর্মি হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। বৃটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির ‘ বাংলা টাউন ‘ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনেকটা অকালেই মাত্র ৪৪ বছর বয়সে ম. আ. মুক্তাদির ১৯৯৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তার সতীর্থ অনুরাগীসহ সিলেট অঞ্চলের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ম আ মুক্তাদিরকে একজন নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমিক সংগঠক হিসেবে নানা আয়োজনে স্মরণ করছেন। সিলেট, লন্ডন এবং নিউইয়র্কে তার স্মরণে একাধিক অনুষ্ঠান হচ্ছে।