যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’

0
32

ঢাকা , ১৪ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস২৪):

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’-অ্যান্থোলজির প্রকাশনা উৎসব। স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস-এর বাংলাদেশ প্লাজায় অনুষ্ঠিত প্রকাশনা উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার এবং বাংলাদেশি কবি, সাহিত্যপ্রেমী ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’-অ্যান্থোলজি সফল হয়েছে কবিতার পত্রিকা ‘শব্দগুচ্ছ’-এর মাধ্যমে। গত ২২ বছর ধরে প্রকাশিত দ্বিভাষিক এই পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিও পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পত্রিকা সম্পাদক ও কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর অনুবাদে এ বছর প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের কবিতার একটি নির্ভরযোগ্য অনুবাদ সংকলন, ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি।’ নিউইয়র্ক কালচারাল অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ অনুবাদ গ্রান্টে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মূলধারার দুটি স্মলপ্রেস, ক্রস-কালচারাল কমিউনিকেশনস ও নিউ ফেরাল প্রেস।

বইটির অনুবাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ বলেন, আমি যখন এই বইটি বুকে চেপে ধরি আমার মনে হয় আমি বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আছি। দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এর চেয়ে ভালো উপায় আমার জানা নেই।

‘শব্দগুচ্ছ’ পত্রিকার ব্যানারে আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রের কবি ও প্রকাশক স্ট্যানলি এইচ বারকান। তিনি বলেন, রবীন্দ্র ও নজরুলের ধারাবাহিকতায় হাসানআল আব্দুল্লাহকে কবিতার ভেতর দিয়ে আমি চিনি। তিনি শুধু নিজের কবিতাই নয়, অনেকক্ষেত্রে নিজেকে সরিয়ে রেখে তার দেশের কবিতাকে উপস্থাপন করতেই ভালবাসেন। তিনি বলেন, দু’হাজার সালে আমি তার প্রথম বই ‘বেথ অব বেঙ্গল’ প্রকাশ করি। হাসানআল বাংলা কবিতাকে কতোটুকু ভালবাসেন তার অন্যতম নির্দশন ‘কনটেম্বোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি।’ বারকান পড়েন তার লেখা ‘ঢাকা-কুইন্স’ কবিতাটি।

লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়েটিভ রাইটিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ার প্রফেসর জন ডিগবি সিটি কালচারাল অ্যাফেয়ার্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই বইটি পাবলিক লাইব্রেরিসহ এদেশে বড়ো বড়ো বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে স্থান পাবে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা বাঙলা কবিতার সাধ পেতে এই বইটি হাতে তুলে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রফেসর ডিগবি হাসানআল আব্দুল্লাহর সনেট ও ইংরেজি-ইতালিয়ান সনেটর একটি তুলনামূলক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হাসানআল যেভাবে সনেটকে দেখেন আমরা কেউ সেভাবে দেখতে পারিনি, তিনি সনেটকে ডায়েলেকটিক ফর্মে নিয়ে এসে চৌদ্দ লাইনের এই কবিতাকে একটি সেমেট্রি ভেতরে বেধে ফেলেছেন। জোন ডিগবি সংকলন থেকে হাসানআল আব্দুল্লাহর ‘স্বতন্ত্র সনেট ৭৭’ আবৃত্তি করে শোনান।

এর আগে দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কবি বিল ওয়ালেকের আবৃত্তির ভেতর দিয়ে, তিনি শামসুর রাহমান ও শহীদ কাদরীর কবিতা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, এই সংকলনটি একটি অত্যন্ত সফল অনুবাদ, যা ইংরেজী ভাষি কাব্যমোদিদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলেই আমি মনে করি।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নিকোলাস বার্ন্স দীর্ঘসময় ধরে এই সঙ্কলনটি নিয়ে হাসানআল আব্দুল্লাহর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা পাঠকদের দুর্ভাগ্য যে তারা শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদের মতো শক্তিশালী কবিকে চিনতে পারেনি। তিনি হুমায়ুন আজাদ ও রফিক আজাদের কবিতা পড়ে শোনান। তার আলোচনায় আহসান হাবীব, সৈয়দ শামসুল হক ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতাও উঠে আসে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আরো বলেন, শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে আমি হাসানআলের অনুরোধে একটি প্রবন্ধ লিখছি। তার শততম জন্মদিন উপলক্ষে আমি প্রবন্ধটি খুব আনন্দের সঙ্গে লিখছি, কারণ শেখ মুজিব শুধু বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাই নন, তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা ছিলেন।

প্রাবন্ধিক আহমেদ মাযহার এই সঙ্কলনটিকে একটি মালা হিসেবে তুলে ধরে এর বহুল প্রচার কামনা করেন। বেলাল বেগ ও সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ এই বইকে বাংলাদেশের কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থাপন হিসেবে বর্ণনা করে প্রকাশক ও অনুবাদককে ধন্যবাদ জানান। কবি শামস আল মমীন দ্বিভাষিক কবিতা পত্রিকা ‘শব্দগুচ্ছ’ প্রকাশ ও ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি কবিতা’ অনুবাদ ও সম্পাদনার ভেতর দিয়ে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় বাঙলা কবিতার একটি উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করার জন্যে হাসানআল আব্দুল্লাহকে সাধুবাদ জানান।

কবি নাজনীন সীমন সঙ্কলন থেকে কবি আবুল হাসান ও নিজের একটি করে কবিতা পড়ে শোনান। সঙ্কলন থেকে আরো কবিতা পড়েন নতুন প্রজন্মের দুই উজ্জ্বল মুখ মাহিরা রাহিম ও সামন্থা রহমান। কৌতুক পরিবেশন করেন শহীদ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে কবির একমাত্র পুত্র একক সৌবীর বলেন যে তার বাবা নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে কবিতাকে বেছে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মিনি কাদির।

উল্লেখ্য ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’ গ্রন্থে ৩৮জন কবির ১৪৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। প্রচ্ছদ আর্ট পোলিশ শিল্পী ইয়াসেক ওজোয়োস্কি ও ডিজাইন আল নোমান। উৎসর্গ করা হয়েছে ’৫২ ভাষা আন্দোলনে শহীদদেরকে। অ্যামাজন ডটকম ও স্মল প্রেস ডিস্টিবিউশন ডট কম-এ পাওয়া যাচ্ছে বইটি।