জঙ্গি রাজীব গান্ধীর ফাঁসির রায়ে স্বজন ও গ্রামবাসীর স্বস্তি প্রকাশ

0
49

ঢাকা , ২৭ নভেম্বর, (ডেইলি টাইমস২৪):

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীসহ ৭ জনের ফাঁসির রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রাজীব গান্ধীর স্বজন ও তার গ্রামবাসীরা।

রাজীব গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম রাঘবপুর ভুতমারাঘাট (চকদাতেয়া) গ্রামের ওসমান মুন্সির ছেলে। ওসমান মুন্সি স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। প্রায় ৫ বছর আগে তিনি মারা যান। ওসমান মুন্সির দুই স্ত্রী। রাজীব প্রথম স্ত্রী রাহেলা বেগমের ছেলে। রাহেলা বেগমের দাবি ,রাজীবের এই জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

রাজীবের ছোট বোন রেজওয়ানা খাতুন জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে ভাই (রাজীব) মায়ের সাথে নানা বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে চলে যান। তারপর থেকে সেখানে বসবাস করতো। তিনি আরও জানান, ভাই কখন কীভাবে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়েছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।

রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, আমরা এই রায়ে অনেক খুশি। দ্রুত এ রায় কার্যকর হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে। ‘জঙ্গিদের আস্তানা’ বলে এই গ্রামের আর বদনাম থাকবে না। একই কথা জানালেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামের মুনজুরুল ইসলাম। বোনারপাড়ার বাসিন্দা আবেদুর রহমান জানান, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে সাঘাটা উপজেলা কলঙ্ক মুক্ত হলো। এই মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীর কারণে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ছিল।

গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন জানান, হলি আর্টিজানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা ও হামলায় বারবার একাধিক পত্রিকায় উঠে এসেছে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ির চরাঞ্চল এবং গোবিন্দগঞ্জের নাম। তাই এই ঘটনায় ৭ জনের ফাঁসির রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। এখন দ্রুত এই রায় কার্যকরের মধ্যে দিয়ে গাইবান্ধা কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

রাজীবের তার বড় ভাই আবু তাহের (৪৪) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরে ভাড়া বাসায় থেকে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, রাজীব পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে রাজ মিস্ত্রির কাজ শুরু করে। সে এই বাড়িতে (মালঞ্চা গ্রামে) নিয়মিত থাকত না। রাতে আসত আবার সকালে চলে যেত। এক পর্যায়ে (প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে) পুলিশ ওই গ্রামে জঙ্গি অভিযান শুরু করলে রাজীব গান্ধী পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দেয়। তার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, রাজীব গান্ধীর কর্মকাণ্ডের কথা শোনার পর থেকে আমরা তাকে ঘৃণা করি। তাই আমরা এই রায়ে অনেক খুশি।

রাজীবের দ্বিতীয় ভাই আলী হোসেন (৪০) মালঞ্চা গ্রামে পৃথক বাড়িতে থাকেন। তিনি বলেন, তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। এছাড়া তার ফাঁসির রায়ে আমাদের কোন অনুশোচনা নাই।

রাজীবের বিমাতা ভাই মনির মিয়া ভুতমারাঘাট গ্রামে বসবাস করেন। তিনি জানান, আমি তাকে কখনও এ গ্রামে আসতে দেখিনি। তবে শুনেছি মাঝে মাঝে এ গ্রামে আসত। তবে কখন আসত এবং কখন যেত, তা আমরা জানতাম না। তাকে গ্রেফতারের পর আমরা জানতে পারি, রাজীব এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

সাঘাটা থানার ওসি বেলাল হোসেন জানান, রায়কে ঘিরে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম রাঘবপুর ভুতমারাঘাট (চকদাতেয়া) গ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘রাজীব গান্ধী’ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া রাজীব গান্ধী বিগত ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত উপজেলা শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী তরুণ দত্ত (৩৮) ও একই বছরের ২৫ মে সংঘটিত উপজেলার মহিমাগঞ্জ বাজারের জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক (৬৮) হত্যা মামলার আসামি। এই দুই হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে রাজীব গান্ধীর নাম আছে।