বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরছে

0
43

ঢাকা , ২৭ নভেম্বর, (ডেইলি টাইমস২৪):

ভারতের মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের মহা-নাটকে যে পরিণতি ঘটেছে, তাতে বিজেপি শিবির ভালোভাবেই ধাক্কা খেল। বিপর্যস্ত হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর রাতারাতি ‘চাণক্য’ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও। ‘এলেন, দেখলেন জয় করলেন’, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের বাসিন্দা হয়ে ওঠা নরেন্দ্র মোদির যাত্রাকে অনেকেই এভাবে বর্ণনা করেন।

বিশেষ করে সকল হিসাব পাল্টে দিয়ে এ বছর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রধান সেনাপতি অমিত শাহের রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দু’বার ভাবছিলেন অনেকেই।

কিন্তু একদিকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মোদি-শাহ জুটি যখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন, ঠিক সেই সময় বিধানসভার নিরিখে গত দুই বছরে ক্রমশ পায়ের তলার জমি হারাতে শুরু করেছে বিজেপি। যাতে নতুন সংযোজন মহারাষ্ট্র। সেখানে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় রণে ভঙ্গ দিতে হয়েছে তাদের। আর তাতেই উদ্বেগ বেড়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।

২০১৪ সালে বিপুল সংখ্যাগারিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়ে বিজেপি। সেই সময় এককভাবে বা শরিক দলের সঙ্গে মিলে পাঞ্জাব, গুজরাি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া এবং অরুণাচলপ্রদেশ, এই সাতটি রাজ্য তাদের দখলে ছিল।

মোদি ঝড়ে ভর করে তার পরের বছর আরো ছয়টি রাজ্য গেরুয়া শিবিরের দখলে চলে যায়। ২০১৬ সালে তাদের দখলে থাকা মোট রাজ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫। ২০১৭ সালে আরো চারটি রাজ্য যোগ হয় তাতে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট ২১টি রাজ্যের দখল চলে যায় গেরুয়া শিবিরে। সেই সময় শুধু তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্নাটক, মিজোরাম, পাঞ্জাব, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলাঙ্গানা তাদের হাতে ছিল না।

কিন্তু এর পরেই একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হতে শুরু করে বিজেপির। ২০১৮ সালে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগঢ়— হিন্দি বলয়ের এই প্রধান তিন রাজ্যই হাতছাড়া হয় তাদের।

এরপর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে অন্ধ্রপ্রদেশও বেরিয়ে যায় হাত থেকে। তার মধ্যে নভেম্বরে মিজোরামে জোট সরকার গড়তে সফল হলেও, গত বছর ডিসেম্বরে মেহবুবা মুফতির পিডিপি-র সঙ্গে বিজেপির জোট সরকার ভেঙে গেলে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় সেখানে। তার জেরে উপত্যকাও হাতছাড়া হয় গেরুয়া শিবিরের।

এ বছরের গোড়ায় কর্নাটকে এইচ ডি কুমার স্বামীর জনতা দল সেকুলার এবং কংগ্রেসের জোট সরকার ভেঙে বিএস ইয়েদুরাপ্পার নেতৃত্বে সেখানে সরকার গঠন করে বিজেপি। এর পরই মঙ্গলবার সংঘের গড় মহারাষ্ট্র হাতছাড়া হয় তাদের। শনিবার রাতারাতি রাষ্ট্রপতি শাসন উঠে যাওয়ার পরেই সেখানে সরকার গঠন করে বিজেপি।

এনসিপি-র অজিত পওয়ারকে ভাঙিয়ে এনে দ্বিতীয়বারের জন্য দেবেন্দ্র ফডণবীসকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসায় তারা। কিন্তু গতকাল অজিত পওয়ার ইস্তফা দেওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পদত্যাগ করেন ফডণবীস নিজেও।

মহারাষ্ট্র হাতছাড়া হওয়ার পর এই মুহূর্তে বিজেপির দখলে থাকা মোট রাজ্যের সংখ্যা ১৭ তে এসে ঠেকেছে। তবে এর মধ্যে বড় রাজ্য বলতে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক এবং উত্তরাখণ্ডই রয়েছে। আর তাতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে গেরুয়া শিবিরের। একই সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে অমিত শাহর সদ্য গড়ে ওঠা ‘চাণক্য’ ইমেজও। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ট্রল ও মিম চালাচালি। জার্সি বদলের রাজনীতিতে শাহ যে এখন ব্যাকফুটে, তা বেশ স্পষ্ট।