পুলিশ-বিএনপি নেতা দ্বন্দ্ব, রাস্তায় উঠল ইটের প্রাচীর

0
31

ঢাকা , ১২ জানুয়ারি, (ডেইলি টাইমস২৪):

একদিকে পুলিশের কনেস্টবলে কর্মরত মেহেদী হাসান, অপরদিকে সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর-নবী খন্দকার নয়নের বাড়ি। এই দুজনের বাড়ির পাশেই রয়েছে গ্রামের লোকজনের চলাচলের রাস্তা। হঠাৎ করেই গতকাল শনিবার ওই বিএনপি নেতার বাড়ির পাশের রাস্তাটি ইটের দশ ইঞ্চি প্রাচীর তুলে বন্ধ করে দেয় পুলিশের কনেস্টবলে কর্মরত মেহেদী হাসান। এতে বিপাকে পড়েন গ্রামের বাসিন্দারা। এই ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার চকবিজলী মন্ডল পাড়া গ্রামে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মেহেদী হাসান পুলিশে চাকরি করেন, এই দাপটেই তিনি গ্রামের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

সরেজমিনে আজ রবিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, বিএনপি নেতা নূর-নবী খন্দকারের বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে গ্রামের লোকজনের চলাচলের একটি রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তাটি দিয়ে চকবিজলী মন্ডল পাড়া গ্রামের অর্ধশত ঘরের লোক চলাচল করে। রাস্তাটির পাশে অব্যহৃত একটি সরকারি গভীর টিউবয়েল (স্থানীয় ভাষায় তারা পাম্প) রয়েছে। গত শনিবার পুলিশ কনেস্টবলে কর্মরত মেহেদী হাসান তার সীমানায় ১০ ইঞ্চি ইটের প্রাচীর তোলে।

গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চকবিজলী মন্ডল পাড়া গ্রামের পশ্চিম পাশে তুলসীগঙ্গা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। আর পূর্ব পাশে রয়েছে কার্পেটিংয়ের রাস্তা। তবে ওই গ্রামের লোকজনরা কার্পেটিংয়ের রাস্তাটি দিয়েই চলাচল করে। গ্রামটি থেকে বের হওয়ার দুটি রাস্তা রয়েছে। একটি নূর-নবী খন্দকারের বাড়িরর উত্তর পাশ দিয়ে আরেকটি মেহেদী হাসানের বাড়ির সামনে দিয়ে। এই দুটি রাস্তার কিছু অংশ নূর-নবী খন্দকার ও মেহেদী হাসানের নিজ সীমানার ওপর দিয়ে রয়েছে। হঠাৎ করে গতকাল শনিবার নূর-নবী খন্দকারের বাড়ির পাশের রাস্তাটি মেহেদী তার সীমানায় ইটের প্রাচীর তুলে বন্ধ করে দেয়। এর পর মেহেদী দাবি করে তার বাড়ির সামনে দিয়ে যে রাস্তা রয়েছে ওই রাস্তার পাশে নূর-নবী খন্দকার তার সীমানা থেকে দুই ফিট যায়গা ছেড়ে দিতে হবে এবং গ্রামের লোকজনরা তার (মেহেদী হাসান) বাড়ির সামনে দিয়ে একটি রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হবে। এতে গ্রামবাসী ও নূর-নবী খন্দকার আপত্তি জানায়। গ্রামবাসীদের দাবি, গ্রাম থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে পুরনো রাস্তাটিই হচ্ছে নূর-নবী খন্দকারের বাড়ির পাশের রাস্তা। আর নতুন রাস্তাটি মেহেদীর বাড়ির সামনে দিয়ে। গ্রামটির অর্ধশত ঘরের লোকজন নূর-নবী খন্দকারের বাড়ির পাশের রাস্তাটিই উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

চকবিজলী মন্ডল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর হোসেন বলেন, আমার পূর্ব পুরুষরা এই রাস্তাটি দিয়েই চলাচল করে এসেছে আমরাও করছি। হঠাৎ করেই পুলিশের কনেস্টবলে কর্মরত মেহেদী হাসান তাদের সীমানা দাবি করে ইটের প্রাচীর তুলে সেটি বন্ধ করে দিয়েছে। আবার আমাদের গ্রামের পানি নিষ্কাষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামের কার্পেটিং রাস্তায় একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে সেটির সামনেও মেহেদী ইটের প্রাচীর দেওয়ার জন্য ভীত খুড়েছিল। সে গ্রামে পুলিশি প্রভাব খাটায়।

মঞ্জু বেগম বলেন, গ্রামের লোকজন গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলবে না তো কোন দিয়ে চলবে। মেহেদী পুলিশের চাকরি করে বিধায় সে তার ইচ্ছে মতো আমাদের চলাচলের রাস্তা এভাবে ইটের প্রাচীর তুলে বন্ধ করে দিবে? আমরা রাস্তা চাই।

ফজলুল হক বলেন, গ্রামের লোকজনরা কিছু মেহেদীর বাড়ির সামনের রাস্তা আর কিছু নূর-নবী খন্দকারের বাড়ির পেছনের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। মেহেদী তার বাড়ির সামনের রাস্তা আরো প্রশস্ত করার জন্য পাশে নূর-নবী খন্দকারের সীমানা থেকে দুই ফিট জায়গার দাবি করেছিল। সে নূর-নবী খন্দকারের দিকে রাজি না হওয়ায় মেহেদী তার সীমানায় ইটের প্রাচীর উঠিয়ে গ্রামের লোকজনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করেছে।

অপরদিকে বিএনপি নেতা নূর নদী খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ির সীমানার পেছন দিয়ে গ্রামের লোকজন চলাচলের রাস্তাটি পুরোটাই আমাদের নিজস্ব জমির ওপর দিয়ে। যেহেতু একদিক দিয়ে আমি পুরো রাস্তাটি দিয়েছি। সেহেতু আবার কেন অন্য পাশে মেহেদীর বাড়িতে চলাচলের সুবিধা করে রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিব। মেহেদী পুলিশের চাকরি করে সেই গরমে সে গ্রামের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে গ্রামবাসীদের ভোগান্তি হচ্ছে। সে তার বাড়িতে চলাচলের জন্য আমার কাছ থেকে জমি চাইছে। আমি তাতে রাজি হইনি।

এদিকে পুলিশ কনেস্টবল মেহেদী হাসান বলেন, আমি গ্রামের লোকজনরা যাতে ভলভাবে চলাচল করতে পারে সেই জন্য আমার বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তাটি আরও প্রশস্ত হওয়া দরকার। এজন্য নূর নবী খন্দকারকে বলেছিলাম দুই ফিট জায়গা ছাড়তে। তিনি তাতে রাজি হননি। তাই আমি আমার সীমানায় ইটের প্রাচীর তুলে ছিলাম। পড়ে সেটি ভেঙেও দিয়েছি। তবে প্রাচীর থাকলে গ্রামের লোকজনের চলাচল করতে কোন সমস্যা হতো না। আমার বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তাটিই ভালছিল। আমি এলাকায় কোনো পুলিশি প্রভাব খাটাই এটি সত্য নয়।

এ বারে সোনামুখী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি শোনার পরে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এবং নিষেধ করেছিলাম এভাবে লোকজনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। পড়ে বিষয়টি আর দেখা হয়নি।