‘কেউ কথা রাখেনি’

0
30

ঢাকা , ১৩ জানুয়ারি, (ডেইলি টাইমস২৪):

অদম্য তামান্না আক্তার নূরার কথা হয়তো আমাদের অনেকেরই মনে আছে। কিন্তু যাদেরকে তার কথা বেশি করে মনে রাখার কথা ছিল, তারা হয়তো ভুলে গেছে প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে লেখাপড়ায় অদম্য তামান্নার কথা। কেউ এখন আর তার খোঁজ নেয় না। যারা তার খোঁজ রাখার ওয়াদা করেছিল, পরে তাদেরই আর খোঁজ মেলেনি। ফলে, বিষয়টির বাস্তবতা যেন কবিতার লাইনের মতো ‘কেউ কথা রাখেনি’।

যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া জেকে হাইস্কুল থেকে গতবছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছিল তামান্না। শুধুমাত্র একটি পা নিয়ে জন্ম নেওয়া তামান্নার সাফল্য নিয়ে সে সময় দৈনিক কালের কণ্ঠে দুটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদে সাফল্যের পাশাপাশি তার উচ্চ শিক্ষায় আর্থিক বাধার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর তামান্নার উচ্চ শিক্ষায় জন্য অন্তত দেড় ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। উচ্চ শিক্ষার যাবতীয় দায়িত্বভার নেবার ঘোষণাও করেছিল অনেকে। এমনকি সরকারের প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিও বলেছিল এমন প্রতিশ্রুতির কথা।

কিন্তু পরে তারা আর কেউ খোঁজ নেয়নি। ফলে তামান্নার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন যেন দিনদিন কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে। তামান্নার বাবা রওশন আলী একটি ননএমপিওভুক্ত দাখিল মাদরাসার শিক্ষক। তাই টিউশনি করে সংসার চালাতে হয়। তার পক্ষে তামান্নার লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভাব হচ্ছে না।

তামান্না এখন বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। কলেজের অধ্যক্ষ সামছুর রহমান জানান, তামান্না অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় কলেজ প্রথম হয়েছে।

ওর বাবা রওশন আলী জানান, বিজ্ঞানের তিনটি বিষয়ে তাকে প্রাইভেট পড়তে হয়। মানবিক কারণে যে তিনজন শিক্ষক বাড়িতে এসে প্রাইভেট পড়ায়ে টাকা চেয়ে না নিলেও চক্ষুলজ্জায় যেটা দেওয়া হয় সেটাও আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য।

রওশন আলী আরো জানান, দৈনিক কালের কণ্ঠে সংবাদ হওয়ার পর বহুলোক তামান্নার উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে সেই লোকজনরা আর খোঁজ নেয়নি। সে সময় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তামান্নার লেখা পড়ার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছিলেন। অবশ্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একটি দুর্যোগ সহনীয় ঘর, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও একজন কানাডা প্রবাসী কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িক্তে) সাধন কুমার বিশ্বাস জানান, আগের কর্মকর্তা কোনো তহবিল থেকে তামান্নাকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন সেটা আমার জানা নেই। তবে আগামী জেলা সভায় বিষয়টি আমি জেনে আসব। তামান্না প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। তার দৃষ্টিনন্দন লেখা ও চিত্রাঙ্কনে রয়েছে খ্যাতি।