আগামীদিনের নেতা হবে তোমরাই, সুহেলকে ঢামেক পরিচালক

ঢাকা , ১৮ ফেব্রুয়ারি, (ডেইলি টাইমস২৪):

গত ২২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক এপিএম সুহেলকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ছাদ থেকে ফেলে দেয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

মুমূর্ষু অবস্থায় সুহেলকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করানো হয়। মাথায় প্রচণ্ড রক্তজমাট বেঁধে তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করানো হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউতে) ৩ দিন থাকার পরে এইচডিইউ (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) এ তাকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২ দিন থাকার পরে তাকে কেবিনে স্থানান্তরিত করলে সেখানে তার মেরুদণ্ডের এল১ ও এল২ হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। দীর্ঘ ৬০ দিনের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের এই ছাত্র নেতা।

এ সময় সুহেলকে চিনতে পেরে তাকে জড়িয়ে ধরেন এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি সুহেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিবে তোমাদের মত ছাত্রনেতারাই।

তিনি বলেন, তোমরাই হবে আগামীদিনের নেতা। তবে মাথা দিয়ে কাজ করতে হবে। কোন প্রকার অনিয়ম বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। তোমাকে নিয়ে আমরা অনেক দুঃচিন্তায় ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তুমি এখন উঠে দাঁড়াতে পার। উঠে দাঁড়াতে না পারলে তোমার পরিবারের জন্য অনেক বড় সমস্যা হয়ে যেত।

মেডিকেল পরিচালককে ফুল এবং মালা দিয়ে বরণ করে নিতে আসার কারণ জানতে চাইলে এপিএম সুহেল বলেন, হামলার শিকার হবার পর থেকেই ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক স্যার আমাদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন৷ আমাদের যা অবস্থা ছিল এতে ৩/৪ জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না।

তিনি আমাদের সুচিকিৎসার জন্য প্রায় সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে আলাদা মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন। হাসপাতালে থাকাকালীন নার্সদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি স্যার ডিউটি শেষেও আমাদের জন্য ৪/৫ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় হাসপাতালে অবস্থান করেছেন এবং উনি সার্বক্ষণিক নিজে এসে আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে গেছেন।

মূলত উনার আন্তরিকতা আর সুচিকিৎসার ব্যবস্থার ফলেই আজ আমরা সুস্থ। আমার মতে আমাদের চিকিৎসার জন্য আমাদেরকে যদি আমেরিকা,লন্ডন পাঠানো হত তবুও এই রকম আন্তরিক চিকিৎসা আমরা পেতাম না। হাসপাতালের আয়া,সিকিউরিটি গার্ড, নার্স, ডাক্তার থেকে শুরু করে সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং যখন যা লাগে তা সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ করেছেন।

এমনকি আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ জনের একটা সিকিউরিটি টিম গঠন করা হয়। আমরা উনার কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ৷”

উল্লেখ্য যে এর আগেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে সুহেলকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেইট থেকে তুলে নিয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা এবং মারধর করে তার ঠোঁট কেটে তাকে ফেলে রেখে যায়।

এছাড়াও কোটা আন্দোলনের সময় তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয় এবং প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ছাত্র অধিকার পরিষদের বগুড়ায় ইফতার মাহফিলেও তার উপর হামলা করেছিল বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ।