বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সব যান চলাচল বন্ধ

ঢাকা , ১৪ মার্চ, (ডেইলি টাইমস২৪):  করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারত সমস্ত রকম পর্যটক ভিসা বাতিল করার পরে কাল থেকেই দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত কমে গিয়েছিল। শুক্রবার দিল্লিতে বিদেশ, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে বাস পরিষেবাও।

জানা গেছে, শুক্রবার থেকে ভারত থেকে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। তবে বেসরকারি কয়েকটি বিমান ফেরত যাত্রীদের আনতে দিল্লি, কলকাতা ও চেন্নাই গিয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে আর কোনও বিমান যাতায়াত করবে না। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতে পারে। বিমান, রিজেন্ট, নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা মিলে ভারতের তিনটি গন্তব্যে সপ্তাহে ৩৭টি বিমান চালায়। ভারত থেকে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো-ও ঢাকায় আসে। ভারতে ইতিমধ্যেই যাওয়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে সোমবার পর্যন্ত কয়েকটি বিমান চালানো হবে।

বিপাকে পড়েছেন ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিক ও বংলাদেশ থেকে যাওয়া ভারতীয়রা। চিকিৎসার জন্য বহু বাংলাদেশি কলকাতা ও চেন্নাইয়ের হাসপাতালে রয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন জানান, চীন, ইটালি, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক ভিসা বন্ধ করেছে বাংলাদেশ। ভারত তালিকায় না থাকলেও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশে সফরে নিরুৎসাহ করছেন তারা।

এদিকে, ৫১ জন ভারতীয় নাগরিক নিয়ে সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ঢাকা কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন। আজকেই ছিলো এই ট্রেনের শেষ ট্রিপ। আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাতিল করা হইছে।

আগে থেকেই ১৩৮ জন যাত্রী ভারতে যাওয়ার টিকিট কেটে রেখেছিলেন, কিন্ত আজ শুধু ভারতীয়দের ইমিগ্রেশন দেয়া হয়। বাংলাদেশী অনেকেই শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন নি। জাতি সংঘের কর্মকর্তা ও ভারতীয়রা শুধু আজ ইমিগ্রেশন পেয়েছেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন অনেক যাত্রী।

১৪ মার্চের পরেও যাদের টিকিট ছিলো এমন ভারতীয় নাগরিকদেরও আজ যেতে দেয়া হয়েছে। যে সব বাংলাদেশী আজ ও পরবর্তী তারিখের টিকিট কেটে ছিলেন, তাদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। আগামী সোমবার দুপুর থেকে কমলাপুর স্টেশনে টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে রেলওয়ে।