কক্সবাজারে প্রথম করোনা শনাক্ত, আক্রান্তের বাড়ি নজরদারিতে

ঢাকা , ২৪ মার্চ, (ডেইলি টাইমস২৪):

কক্সবাজারের ৭০ বছর বয়সী এক নারীর করোনা পজিটিভ ঘোষণা দিয়েছে আইইডিসিআর। নতুন আক্রান্ত ৬ জনের মধ্য তিনি একজন। ওই নারী কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার সংসস্পর্শে আসা ১৪ জন ডাক্তার এবং ৫ জন নার্সকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টিনে। তার বাড়ির এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষ।

জানা যায়, ওই নারী গত ১৩ মার্চ সৌদি আরব থেকে ওমরাহ শেষ করে কক্সবাজারে ফিরেছেন। এরপর ১৮ মার্চ তিনি সর্দি-কাশি ও জ্বর নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে পাঠানো নমুনা প্রতিবেদনে নারীর করোনা পজেটিভ তথ্য আসে কক্সবাজারে।

কক্সবাজারে একজন সৌদিফেরত নারীর পজেটিভ প্রতিবেদন আসার পর থেকেই জেলা সদর হাসপাতালে তোলপাড় শুরু হয়। কেননা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ৫০১ নম্বর কক্ষে টানা গত ৮ দিন ধরে সৌদিফেরত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুসলিমা খাতুন (৭০) নামের উক্ত নারী এবং তার স্বজনরা তথ্য গোপন করেই এতদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা তার উপসর্গ দেখে সন্দেহজনক মনে করেই গত ২২ মার্চ ঢাকায় পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠান।

অভিযোগ রয়েছে, এই নারীকে শুরু থেকে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা সন্দেহ করলেও হাসপাতাল প্রশাসন তা গোপন করে রাখে। গত রবিবার রাত থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার রোগীর বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন।

এ ঘটনার পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. মহিউদ্দিনসহ ১৪ জন চিকিৎসক, ৫ জন নার্স ও ৩ জন স্বাস্থ্য সহকারী মঙ্গলবার বিকাল থেকেই হোম কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সাথে যে সব স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিলেন তাদেরসহ অন্যান্যদেরও কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নারীর পরিবারটিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যাওয়া চিকিৎসকসহ স্বজনদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করছি।’

পুলিশ সুপার জানান, আজ বিকালেই শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন টেকপাড়া পাহাড়তলী এলাকার যে বাসায় নারীকে রাখা হয়েছিল সেই এলাকাটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।