মোহনগঞ্জে করোনার ভয়ে রোগীশূন্য হাসপাতাল

ঢাকা , ২৪ মার্চ, (ডেইলি টাইমস২৪):

করোনাভাইরাস আতঙ্কে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রকম চিকিৎসা নিয়েই স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে চলে যাচ্ছেন ভর্তিকৃত রোগীরা। শুধু তাই নয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সরাও করোনা ভয়ে রোগীদের কাছে ভিড়ছেন না বলেই তারা ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বাধ্য হয়েই ছুটি নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে নেত্রকোনার প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নিজ উপজেলাসহ পাশের খালিয়াজুড়ী, বারহাট্টা, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে এখানে আসেন। আর সারা বছরই গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগী ভর্তি থেকে এখানে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মহামারী রূপ নেওয়া এবং গত ১৯ মার্চ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৩৫) নামে এক প্রবাসী নারী সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে তিনি অচেতন হয়ে পরলে কর্তব্যরত ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে তাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ময়মনসিংহ সূর্যকান্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করেন। তখন এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর করোনাভাইরাসের ভয়ে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীসহ ডাক্তার ও নার্সরা ছোটাছুটি করে হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করতে থাকেন। এরপর থেকেই হাসপাতালে রোগীরা ভর্তি হলেও তারা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) আলমগীর হোসেন সিকদার ও রঞ্জন সরকার নামে এক ওয়ার্ড বয় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত রয়েছেন। কোনো রোগী না থাকায় তারা দু’জনই দুটি চেয়ারে বসে রয়েছেন।

এ সময় তারা করোনাভাইরাসে তারাও আতঙ্কিত উল্লেখ করে আলমগীর হোসেন সিকদার জানান, এ হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থেকে প্রতিদিন আমরা আড়াই থেকে তিন শত রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আসলেও বর্তমানে এখানে আগের মতো রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছে না। তবে করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে।

পরে পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, তপন সরকার (২০) নামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ভর্তিকৃত এক রোগী বেডে শুয়ে রয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, ভর্তিকৃত আরো ছয়জন রোগী করোনাভাইরাসের ভয়ে কোনো রকম সুস্থ হয়েই তারা আজ সকাল ১০টার দিকে ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। তিনি আরো বলেন, করোনার ভয়ে ডাক্তার ও নার্সরাও এখানে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ভয় পাচ্ছেন। তাই আমিও আগামীকাল ছুটি নিয়ে চলে যাব।

ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স রিনা পাল বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আমরাও ভুগছি। সরকারিভাবে পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাবসসহ কোনো ধরণের সরঞ্জামাদি আমাদেরকে এখনো সরবরাহ করা হয়নি। তাই আমরা এনিয়ে আতঙ্কে রয়েছি এবং রোগীদেরকেও সেবা দিতে আমাদের মধ্যেও ভয়ের সঞ্চার হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুবীর সরকার করোনা ভয়ে ভর্তি রোগীরা চলে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভর্তিকৃত ৮ জন রোগীর মধ্যে ১ জন বাদে সবাই ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের ৫০ জন স্টাফের মধ্যে মাত্র ১০ জন স্টাফকে সরকারিভাবে ওয়ান টাইম পিপিই, ১০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাবস ও কিছু মাস্ক দেওয়া হয়েছে যা একবারেই অপ্রতুল। স্বল্প পরিমাণ সরঞ্জামাদি দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য চরম ঝঁকিপূর্ণ এবং আমরাও এ আতঙ্কে ভুগছি।