ঈশ্বরদীতে করোনার সন্দেহ বিদেশি নাগরিকের, গেলেন ঢাকায়

ঢাকা , ২৬ মার্চ, (ডেইলি টাইমস২৪):

করোনা সন্দেহে পাবনার ঈশ্বরদীর দরিনারিচায় রাশিয়ানদের বসবাসকৃত ভাড়া হাউজ-২ লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ (আরএনপিপি) প্রকল্পের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রাশিয়ানদের মালিকানাধীন অর্গানাগোস্টরয় এসএল কম্পানিতে কর্মরত বেলারুশ নাগরিক চুপ্রিম ভিচেশ্লাভ (৩৭)। বুধবার রাত আনুমানিক ১১টায় স্বেচ্ছায় পরীক্ষার নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় গিয়েছেন তিনি।

ওই বাসায় এক সঙ্গে ১৫/১৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করতেন। এই জন্য বাসাটি লকডাউন করে রাখা হয়েছে। বসানো হয়েছে পুলিশ পাহারা। আর তাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পে যাতাযাতের গেট পাশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শিহাব রায়হান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি ও দেশীয় শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় সবাই আতঙ্ক প্রকাশ করেন।

প্রকল্পে কর্মরত কয়েকজন বিদেশি ও দেশি শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, দেশে সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারিসহ সকল প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি দিয়ে ও জনসাধারণের চলাচলের উপর সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ রূপপুর প্রকল্পে দুই একটি কম্পানি ছুটি ঘোষণা করলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই ছুটি না দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এই প্রকল্পে অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে থেকে ইতোমধ্যে ২৭৯ জন হোম কোয়ারেনটিনে রাখা হয়েছে। এরপর আবার একজন আক্রান্ত হওয়ার আশংকায় নমুনা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় গিয়েছেন। সব কিছু নিয়ে সবাই শঙ্কিত বলে মনে করছেন কর্মরত শ্রমিকরা।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, চুপ্রিম ভিচেশ্লাভ কাশি ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত। তার দেহে করোনাভাইরাসের কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। তাই তিনি নিজেই বুধবার রাতে নমুনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় গেছেন।

অর্গানাগোস্তরয় এসএল কম্পানির বিদেশি চিকিৎসক সের্গেই মার্জভস জানান, চুপ্রিম ভিচেশ্লাভ ইতিপুর্বে তার গলায় সমস্যাজনিত কারণে অস্ত্রপচার করেছিলেন। সেই কারণে তার গলা ব্যথা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও তাকে হোম কোয়ারেনটিনে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, চুপ্রিম ভিচেশ্লাভ বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য স্থানীয় করোনা প্রতিরোধ সেন্টারের মাধ্যমে চিকিৎসককে হাউজ-২ তে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু পার্সনাল প্রটেক্টশন ইকুপমেন্ট (পিপিই) ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক আসেননি। তাই করোনা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য চুপ্রেম ভিচেশ্লভ নিজেই বুধবার রাতে ঢাকায় গিয়েছেন।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির জানান, ঢাকায় আইইডিসিআর থেকে করোনা শনাক্ত করার জন্য ঈশ্বরদীতে কিট এনে পরীক্ষা চুপ্রিম ভিচেশ্লাভকে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়। কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করে বুধবার রাতে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় গিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের বসবাসকৃত হাউজ-২ লকডাউন করে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে।

কম্পানি সূত্রে জানা যায়, চুপ্রিম ভিচেশ্লভ গত নভেম্বর/২০১৯ বেলারুশ থেকে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এসেছেন। বেশ কিছুদিন পূর্বে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চুপ্রিম ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাজনিত কারণে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তিনি ঈশ্বরদীতে ফিরে আসেন। সম্প্রতি চুপ্রিম কাশি ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত হন। এই জন্য স্থানীয় চিকিৎসকদের সরেজমিনে হাউজ-২ তে গিয়ে চিকিৎসা প্রদানের জন্য তিনি মোবাইলে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কয়েক দফা অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা না আসায় স্থানীয়ভাবে সুচিকিৎসা না পাওয়ার আশংকায় বুধবার রাতে ঢাকায় চলে যান। তবে তিনি কাশি ও গলা ব্যথা ছাড়া অন্য কোনো লক্ষণে আক্রান্ত ছিলেন কি না তা কম্পানির এই সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান জানান, ওই বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। ওই বাসায় বসবাসরত অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের প্রকল্পে যাতাযাত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গেট পাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শহরে জীবানুনাশক স্প্রে, মাস্ক প্রদান ও জনসচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ২৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে হোম কোয়ারেনটিনে রাখা হয়েছে।